আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের বেশ কয়েকজন আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। প্রসিকিউশনের কাছে কিছু গোপন তথ্য রয়েছে যে, অভিযুক্তরা যে কোনো সময় নাশকতামূলক বা স্যাবোটাজ জাতীয় ঘটনা ঘটাতে পারেন। এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি কর্মকাণ্ড ও পরিস্থিতি তাদের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। কেউ যদি কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করেন, তবে তা তাদের জন্যই আত্মঘাতী হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অপরাধীদের বন্ধু মনে করার কোনো সুযোগ নেই এবং তারা যেকোনো সময় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা এদিন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এই পরিবারগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই অপরাধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই তদন্ত যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি একটি যুগোপযোগী আইন। এর মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে। তবে গুমের সঙ্গে জড়িতরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় প্রসিকিউশন পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। সরকারকেও এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

















