ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য মস্কোকে দায়ী করার পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মন্তব্য করেছেন যে, জার্মানি এখন ‘প্রকৃত যুদ্ধের’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ৬ সেপ্টেম্বর ক্রেমলিনপন্থী সাংবাদিক পাভেল জারুবিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
লাভরভ লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, বিমানবন্দরে একটি ড্রোন পাওয়ার পর কোনো যথাযথ তদন্ত ছাড়াই সেটিকে রুশ ড্রোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি মোটের ওপর এমন একটি প্রকৃত যুদ্ধের শুরু।” এর আগে ১ সেপ্টেম্বর জার্মান সরকার আগস্টের শুরুতে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়ার হাত থাকার অভিযোগ তোলে। বার্লিনের পক্ষ থেকে সরাসরি মস্কোকে দায়ী করার এটিই ছিল প্রথম ঘটনা। জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী কয়েকটি ড্রোন পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে একটি কার্গো বিমানের ক্ষতিসাধন করে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট ১ সেপ্টেম্বর বলেন, “আমরা যুদ্ধে নেই। তবে আমরা হাইব্রিড যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু।”
লাভরভ জার্মানির গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে বর্তমান বার্লিনের সঙ্গে নাৎসি জার্মানির তুলনা টেনেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানি রুশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করেছে এবং বার্লিনে রাশিয়ান হাউসও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। তার দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগেও জার্মানরা একইভাবে তাদের কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করেছিল।
এদিকে জার্মানির ভেতরেও সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ব্যঙ্গাত্মক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দাস হেউটে শো’ লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে ব্যঙ্গ করে এবং রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপর জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুলের ঘোষণাকে অকার্যকর হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও ইউক্রেনকে সহায়তার মতো পদক্ষেপগুলোর ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয় না। ভাদেফুল রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মতি প্রয়োজন হওয়ায় তা কার্যকর হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। লাভরভের সাম্প্রতিক এই মন্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

















