বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে দুই দিনব্যাপী আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম) শুরু হচ্ছে। দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস থেকেই ট্রেনগুলো পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠকে কেবল পুরনো তিনটি ট্রেন চালু নয়, বরং রাজশাহী থেকে কলকাতার পথে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। এছাড়া, ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু দিয়ে পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করা হবে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধীরে ধীরে দুই দেশই ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে শুরু করে। ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিনে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চালু হয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয় এবং ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে করোনা মহামারির সময়ও দীর্ঘ ২৬ মাস ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। রেল কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ির কারণে ট্রেন চলাচল এতদিন বন্ধ ছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর চালু হয় খুলনা-কলকাতা পথের বন্ধন এক্সপ্রেস।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর পাশাপাশি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাতে ট্রেন পরিচালনা এবং যাত্রীবাহী কোচের সাথে পার্সেল পরিবহনের কোচ যুক্ত করার প্রস্তাব। এছাড়া পণ্যবাহী ট্রেনের আদান-প্রদান ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং রুটভিত্তিক ভিসার পরিবর্তে সহজতর ভিসা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও বাংলাদেশ জোর দেবে। ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে ২০২২ সালের ১ জুন। রেলওয়ে সূত্র জানায়, এবার ঢাকার বৈঠকে বাংলাদেশ আবার ট্রেনগুলো চালুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলতে যাচ্ছে।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ভারতীয় ঋণে চলমান প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও স্থান পাবে। এছাড়া ঢাকা-কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ধীরগতি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর ২০২০ সালের ১৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলাচলকারী আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীবাহী ট্রেন থেকে অর্জিত আয় দুই দেশ তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বের অনুপাতে ভাগ করে নেয়। সামগ্রিকভাবে, এবারের বৈঠকে পুরনো ট্রেন চালুর পাশাপাশি রেল যোগাযোগের পরিধি ও পরিচালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো দুই দেশের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে।

















