মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। ইরান কর্তৃক মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। একই সাথে এর জবাব দিতে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি এবং ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ট্যাংকার ইরানের আইআরজিসি ও তাদের মিত্রদের অর্থায়নের জন্য ব্যবহৃত ছায়া নেটওয়ার্কের অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কলম্বিয়া সফরকালে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তারা নিজেদের ট্যাংকার হারাবে।
ইরানের নিক্ষিপ্ত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ইরান পাল্টা হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে এবং কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা মার্কিন সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর নাবিকদের দ্রুত জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, গত মঙ্গলবার ইরানের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন বা পানির নিচে ব্যবহৃত ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছিল। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, এটি একটি পুরোনো মডেলের ড্রোন যা ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

















