২০২৪ সালের ৩ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সেদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাসিনা সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদ বিলোপের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। এই ঐতিহাসিক ঘোষণার নেপথ্যে থাকা পরিস্থিতি এবং নিজের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন, যা বর্তমানে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কাদেরের ভাষ্যমতে, ১ তারিখ বৃহস্পতিবার ৬ সমন্বয়ক ডিবি হেফাজত থেকে মুক্ত হন। এরপর আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। পরদিন ২ আগস্ট শুক্রবারের কর্মসূচি ঘোষণা নিয়ে ডিবি ফেরত সমন্বয়কদের একাংশের সঙ্গে তার মতবিরোধ তৈরি হয়। তবে ওইদিন চট্টগ্রামের মতো শহরগুলোতে ‘দফা এক দাবি এক, খুনি হাসিনার পদত্যাগ’ স্লোগান জোরালো হয়ে ওঠে। জুমার নামাজের পর অনলাইনে আয়োজিত এক মিটিংয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই মিটিংয়ে তৎকালীন ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, তবে হাসনাত ও সারজিস সেখানে ছিলেন না। আলোচনার এক পর্যায়ে পেশাজীবী, শিক্ষক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের একাত্মতার কথা উল্লেখ করে এক দফার বিষয়টি সামনে আনা হয়।
কাদের জানান, ওইদিন তার বাসায় এক নারী সাংবাদিক এবং ওয়াহিদ আলম নামে এক ব্যক্তি আসেন। তারা পরিস্থিতির আলোকে এক দফা ঘোষণার পরামর্শ দেন। তিনি ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তারাও ইতিবাচক সাড়া দেন। পরবর্তীতে রিফাতদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি, তারা ফোন ধরে আবার ধরে না। ৫ আগস্টের পরে নাহিদ ভাইদের থেকে জানতে পারি যে, রিফাতরা নাহিদ ভাইকে ফোনে পাওয়ার পরে জানাইছে যে, তাদেরকে নাকি ভয়-ভীতি দেখিয়ে এক দফার বিষয়ে রাজি করানো হচ্ছে। কাদের বলেন, তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেরি না করে দ্রুত এক দফা ঘোষণার পক্ষে ছিলেন, কারণ হাসিনা সরকার তখন নয় দফা মেনে নেওয়ার নামে নতুন কোনো চাল চালছিল।
এক দফার খসড়া তৈরির প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক ও ওয়াহিদ আলম যুক্ত ছিলেন। তবে পরবর্তীতে নাহিদ ভাইদের সঙ্গে কথা বলে রিফাত ও অন্যরা এক দফা ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। কাদেরের দাবি, রিফাতদের ওপর কোনো জোর করা হয়নি, বরং তারা পরিস্থিতির কারণে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে সাংবাদিক ও ব্যক্তিদের তিনি কোয়ার্টার বা ফাঁদ হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার কথা শুনছেন, তারাই আসলে তাদের চারজনকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন।
কাদের স্পষ্ট করেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট কারো নির্দেশে নয়, বরং মাঠের পরিস্থিতি ও ছাত্রদল-শিবিরের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এক দফার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিলেন। রিফাতদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন এবং জানান যে, ওই সময়ের সব আলোচনার কিছু অংশ তার কাছে রেকর্ড করা আছে। তিনি বলেন, “আমাকে জানান৷ আমি আছি আপনাদের সাথে।” সায়ের ভাই পরবর্তী পক্রিয়ায় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে কানেক্টেড ছিলেন। তার মতে, আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোতে এক দফা ঘোষণা ছিল সময়ের দাবি এবং তিনি কেবল সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

















