চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝাংয়ের সঙ্গে মঙ্গলবার বেইজিংয়ে বৈঠক করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। দুই দিনের চীন সফরে থাকা দোভাল এই বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের নেতাদের পূর্ববর্তী সমঝোতার ভিত্তিতেই মূলত সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করেছে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুই দেশের মনোনীত বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করছেন। ২০০৩ সালে এই বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ব্যবস্থাটি চালু করা হয়েছিল। যদিও প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনো সম্ভব হয়নি, তবুও কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে এটি একটি কার্যকর ও কাঠামোবদ্ধ কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, সীমান্ত ইস্যুর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
গত বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত ২৪তম দফার আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে লিন জিয়ান জানান, তখন দুই পক্ষ সীমান্ত ইস্যুতে বেশ কিছু বিষয়ে অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছেছিল। এবারের বৈঠকেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই সফরকে ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ ও পূর্ব লাদাখের সামরিক অচলাবস্থার পর থেকে দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। সীমান্ত বিতর্ক এবং অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে মতপার্থক্য এখনো দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

















