অর্থনীতি

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মুনাফার ১% সমাজের জন্য ব্যয় বাধ্যতামূলক হচ্ছে

প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে ৬ লাখ মানুষের চাকরি হারানোর ঝুঁকি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে ৬ লাখ মানুষের চাকরি হারানোর ঝুঁকি গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জামায়াত আমিরের গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জামায়াত আমিরের শুটিং থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা শুটিং থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা কর্মচারীর বেতন আটকে রাখা অমানবিক ও গর্হিত অপরাধ কর্মচারীর বেতন আটকে রাখা অমানবিক ও গর্হিত অপরাধ নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছুঁইছুঁই নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছুঁইছুঁই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক চায় তালেবান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক চায় তালেবান সরকার গুম হওয়া ২৫১ নাগরিকের পরিবারে অন্তহীন অপেক্ষা গুম হওয়া ২৫১ নাগরিকের পরিবারে অন্তহীন অপেক্ষা গুমের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে: নাহিদ ইসলাম গুমের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে: নাহিদ ইসলাম নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
সব খবর

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মুনাফার একটি অংশ সমাজের জন্য ব্যয় করা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত একটি খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, এই ব্যয়ের পরিমাণ হবে কর-পূর্ব মুনাফার অন্তত ১ শতাংশ। তবে, কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে এর চেয়ে বেশি অর্থও সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় করতে পারবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কার্যক্রমকে একটি সুসংহত কাঠামোর অধীনে আনাই এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট খাতের জন্য সিএসআর ব্যয় বাধ্যতামূলক রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মোবাইল অপারেটরদের তাদের মোট আয়ের ১ শতাংশ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে জমা দিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সাল থেকেই ব্যাংকগুলোকে সিএসআর কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করতে উৎসাহিত করে আসছে এবং ২০২২ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সিএসআর নীতিমালাও জারি করে, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে, এই নীতিমালায় ব্যাংকের জন্য ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়া হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০১০ সাল থেকে সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় করা অর্থের উপর কর ছাড় দিয়ে এই খাতে ব্যয়কে উৎসাহিত করে আসছে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশে পরিচালিত বিদেশি বা বহুজাতিক কোম্পানি এবং নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা অতিক্রমকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই নীতিমালার আওতায় আসবে। তবে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নতুন প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের পর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে এবং এরপর তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বাস্তবতার নিরিখেই নীতিমালাটি তৈরি করা হবে।

নীতিমালাটি প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পরবর্তীতে এটি পর্যালোচনা করা হবে। খসড়া অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি বছর সিএসআর খাতের কার্যক্রমের ওপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। যদি নির্ধারিত অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করা সম্ভব না হয়, তবে তার কারণ, পরিমাণ এবং ব্যবহারের পরিকল্পনা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে। এক্ষেত্রে, অব্যয়িত অর্থ পরবর্তী অর্থবছরে ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিএসআর খাতের সার্বিক তত্ত্বাবধানের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। খসড়া অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি জাতীয় সিএসআর সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

সিএসআর ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা, দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবিকা উন্নয়ন, নারী ও শিশু উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সহায়তা, প্রবীণদের সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তা। এছাড়াও, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও এলাকার উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং সড়ক ও জননিরাপত্তাও অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচিত হবে। জাতীয় দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত খাতেও সিএসআর অর্থ ব্যয় করা যাবে।

নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সিএসআরের অর্থ প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ব্যবসায়িক খরচ, অবকাঠামো নির্মাণ, বিজ্ঞাপন বা প্রচারের খরচ এবং রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক কাজে অনুদান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন, শিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসহ উপযুক্ত সংস্থাকে অংশীদার হিসেবে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়াও, সিএসআর প্রকল্পের উপকারভোগী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য অংশীজনের অভিযোগ ও মতামত জানানোর ব্যবস্থা থাকবে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, সিএসআর কার্যক্রমের চূড়ান্ত দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের ওপর থাকবে এবং এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সিএসআর কমিটি গঠন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা এই কার্যক্রমের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

সিএসআর কার্যক্রমের সাফল্য কেবল ব্যয়ের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে না, বরং প্রকল্পের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাবও মূল্যায়ন করা হবে। আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি বছর একটি সংক্ষিপ্ত বার্ষিক সিএসআর প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে, যেখানে পূর্ববর্তী তিন অর্থবছরের গড় কর-পূর্ব মুনাফা, বাধ্যতামূলক সিএসআর ব্যয়ের পরিমাণ, প্রকৃত ব্যয়, অব্যয়িত অর্থ ও তার কারণ, প্রধান প্রকল্প ও খাত, উপকারভোগীর পরিধি এবং অর্জিত প্রধান ফলাফল উল্লেখ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার প্রকাশ করতে হবে এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছেও তথ্য দাখিল করতে হতে পারে।

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক এবং বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ তবে ব্যবসায়ীদের জন্য যেন নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই সিএসআরের ব্যয় কর-পূর্ব মুনাফার ওপর হতে পারে না।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে ৬ লাখ মানুষের চাকরি হারানোর ঝুঁকি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে ৬ লাখ মানুষের চাকরি হারানোর ঝুঁকি গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জামায়াত আমিরের গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জামায়াত আমিরের শুটিং থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা শুটিং থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা কর্মচারীর বেতন আটকে রাখা অমানবিক ও গর্হিত অপরাধ কর্মচারীর বেতন আটকে রাখা অমানবিক ও গর্হিত অপরাধ নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছুঁইছুঁই নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছুঁইছুঁই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক চায় তালেবান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক চায় তালেবান সরকার গুম হওয়া ২৫১ নাগরিকের পরিবারে অন্তহীন অপেক্ষা গুম হওয়া ২৫১ নাগরিকের পরিবারে অন্তহীন অপেক্ষা গুমের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে: নাহিদ ইসলাম গুমের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে: নাহিদ ইসলাম নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
সব খবর