কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনদিনের সফরে ফের উত্তরবঙ্গে এসেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি সুখরায় একটি রিসোর্টে অবস্থান করছেন। এই সফরে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ভারতের তিনটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমান্ত বরাবর বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা। গত এক মাসের মধ্যে কৌশলগত এই অঞ্চলে এটি শাহের দ্বিতীয় সফর। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানীডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর শিলিগুড়ি সীমান্ত সদর দপ্তরে যাবেন। সেখানে তিনি নতুন প্রশাসনিক ভবনের ‘ভূমি পূজন’ সম্পন্ন করবেন এবং ভারত-নেপাল ও ভারত-ভুটান সীমান্তে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
আগামী ২২শে আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি উচ্চ-পর্যায়ের সীমান্ত-নিরাপত্তা পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এই সভায় বিএসএফ, এসএসবি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এছাড়া শিলিগুড়ির কাওয়াখালী ময়দানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা প্রদর্শনী বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানেও তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া নতুন ১টি ফৌজদারি আইনসহ তিনটি আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই আয়োজন করা হয়েছে।
সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকাগুলোকে “নো ড্রোন জোন” বা “নো-ফ্লাই জোন” হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর আগে সফরের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্তসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাওয়াখালী ময়দান পরিদর্শন করেছেন। শনিবার বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি ফেরার কথা রয়েছে। সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার মতে, এই সফরগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের সীমান্ত অঞ্চল এবং চিকেনস নেকের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

















