ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্যবাহী গাড়িগুলো প্রায়শই বরাদ্দপ্রাপ্ত চালকের বদলে অন্য ব্যক্তিরা চালাচ্ছেন। এই অনিয়মের কারণে সড়কে প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান, স্কুলছাত্র মাহিন আহমেদ এবং লন্ড্রির দোকানের কর্মী ইকবাল হোসেনের মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলোতেও একই অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। অনুসন্ধানে ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ডিএসসিসির ময়লার গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ১৫টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগের বছর বাসাবোয় এক দুর্ঘটনায় নিহত হন আরও দুজন। সব মিলিয়ে ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৬টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত তিনটি ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চালকের বদলে অন্য ব্যক্তির গাড়ি চালানোর প্রমাণ পাওয়া যায়।
গত ৪ অক্টোবর রাত প্রায় পৌনে একটা। সায়েদাবাদের পৌর ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসে ডিএসসিসির একটি ময়লার গাড়ি। নথিতে গাড়িটি বরাদ্দ ছিল সরদার হুমায়ন কবিরের নামে, কিন্তু চালকের আসনে বসা ছিলেন সাজু আহমেদ। তিনি সিটি করপোরেশনের কেউ নন, বরং মাসে ১০ হাজার টাকায় সহকারীর কাজ করেন। ভারী গাড়ি চালিয়ে পাম্পে এলেও তাঁর দাবি, লাইসেন্স আছে হালকা গাড়ির। দায়িত্বপ্রাপ্ত চালক কোথায় জানতে চাইলে সাজু প্রথমে বলেন, ‘আশপাশে’। পরে জানান, তাঁর চাচা গোলাপবাগ মোড়ে আড্ডা দিচ্ছেন। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি তেল না নিয়েই গাড়ি নিয়ে চলে যান এবং অন্য চালকদেরও বিষয়টি জানিয়ে দেন। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও করপোরেশনের অন্য কোনো গাড়ি তেল নিতে আসেনি।
প্রায় পাঁচ বছর আগে ডিএসসিসির ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত হন নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান। সেই গাড়িও চালাচ্ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চালকের বদলে অন্য একজন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, নগর ভবন ঘেরাও, তদন্ত ও চালক বরখাস্তের পরও অন্যের হাতে গাড়ির চাবি দেওয়া বন্ধ হয়নি। পরে স্কুলছাত্র মাহিন আহমেদ ও লন্ড্রির দোকানের কর্মী ইকবাল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনাতেও একই অনিয়ম পাওয়া যায়।
দক্ষিণ সিটির বর্জ্য পরিবহনের গাড়ি নিয়ে প্রথম আলোর অনুসন্ধানে ২২টি গাড়ি অন্যদের দিয়ে চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এমন গাড়ির সংখ্যা অন্তত ৫৬টি। বরাদ্দপ্রাপ্ত চালকদের একাংশ নিজেরা গাড়ি না চালিয়েও বেতন নিচ্ছেন এবং তাঁদের রাখা সহকারী বা বাইরের লোক দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বরাদ্দের জ্বালানি পুরোটা না তুলে বাকি অংশের টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ।
ডিএসসিসির পরিবহন চালক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আলম তালুকদার অনিয়মের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে অন্যদের গাড়ি চালাতে দেওয়া হয়। একদম যে ভালো, আমি এটা বলব না। ভুল তো অবশ্যই আছে।’ তবে তিনি দাবি করেন, অনুসন্ধানের পর তাঁরা নিজেরাও নজরদারি শুরু করেছেন এবং এখন আর সহকারীদের গাড়ি চালাতে দেওয়া হচ্ছে না।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজনের মৃত্যুও কেন হবে। তিনি লাইসেন্স ছাড়া কাউকে গাড়ি চালাতে না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সহকারীকে গাড়ি চালাতে দিলে সংশ্লিষ্ট চালকের পাশাপাশি তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বহিরাগতদের দিয়ে গাড়ি চালানোর তথ্য যাচাই করতে ৪ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সায়েদাবাদের পৌর ফিলিং স্টেশনে যায় প্রথম আলো। করপোরেশনের নিজস্ব এই পাম্প থেকে সংস্থাটির গাড়িগুলো জ্বালানি নেয়। রাত পৌনে একটার দিকে আসে ১১-৪৩০৩ নম্বরের গাড়িটি। নথিতে গাড়িটি ভারী গাড়িচালক সরদার হুমায়ন কবিরের নামে বরাদ্দ। চালকের আসনে বসা সাজু আহমেদ জানান, তিনি করপোরেশনের কেউ নন, সহকারী হিসেবে মাসে ১০ হাজার টাকা পান। তাঁর চাচা গাড়ি চালান, তবে তখন গাড়িতে ছিলেন না। লাইসেন্স সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হালকা গাড়ির লাইসেন্স থাকার কথা বলেন।
সাজু চলে যাওয়ার পর পাম্পের কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে জানান, গাড়ির বরাদ্দের তেল কম তুলে পুরো টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পাম্পে দাঁড়িয়েই গাড়িটির দায়িত্বপ্রাপ্ত চালক সরদার হুমায়ন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। ফলে গাড়ি অন্য ব্যক্তিকে চালাতে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পরদিন ৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের পাশে করপোরেশনের গাড়ি রাখার আরেকটি গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, ১১-৪২৭০ ও ১১-৪৩০৭ নম্বরের গাড়ি দুটি বের হচ্ছিল না। মূল চালকের বদলে অন্যরা চালান বলে অনুসন্ধানে পাওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে এই দুটি ছিল। প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করার পর সাংবাদিকের উপস্থিতি ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ৩৫ জন চালক জড়ো হয়ে কী নিয়ে কাজ হচ্ছে তা জানতে চান। একপর্যায়ে করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় ফিরে আসতে হয়।
এর আগের রাতে ১১-৪২৭৮ নম্বরের আরেকটি গাড়ির চালকের খোঁজও পাওয়া যায়নি। ৪ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত গাড়িটি সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এই গাড়িও অন্যদের দিয়ে চালানোর তথ্য আগে পাওয়া গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চালককে না পাওয়ায় ওই রাতে তাঁর পরিচয় যাচাই করা যায়নি।
ডিএসসিসির মোট যান ও যন্ত্রপাতি ৬০৮টি, এর বিপরীতে স্থায়ী চালক ২৫২ জন। এই হিসাবের মধ্যে বর্জ্য পরিবহনের গাড়ি ছাড়াও করপোরেশনের অন্য যানবাহন ও যন্ত্রপাতি রয়েছে। চালকের ঘাটতি পূরণে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মশককর্মীসহ অন্য পদের কর্মীদেরও গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়, বরাদ্দপ্রাপ্ত চালকেরাই নিজ দায়িত্বে অন্যদের দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরিবহন শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে অনেকে এমন সুযোগ নেন।
চালক সংকটের বিষয়ে প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কিছু চালক নিয়োগ দিয়েছেন এবং আরও নেওয়া হবে। বিভিন্ন বিভাগে জনবলের প্রয়োজন জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের বাসাবাড়ির ময়লা প্রথমে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন বা এসটিএসে আনা হয়। সেখান থেকে গাড়িতে করে নেওয়া হয় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে। বর্জ্য পরিবহন ও ল্যান্ডফিলে ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ২৩৭টি যান-যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় ট্রিপপ্রতি তিন থেকে চার লিটার পর্যন্ত বেশি বরাদ্দের সুযোগ নিয়ে তেল সরানো হয়। বরাদ্দের পুরো তেল গাড়িতে না তুলে বাকি অংশ কম দামে পাম্পেই বিক্রি করে দেওয়া হয়। পাম্পে কর্মরত একজন কর্মকর্তা জানান, করপোরেশনের চালকদের কিছুটা কম দামে তেল বিক্রির বিষয়টি সবাই জানেন। কোনো ট্রিপে ১২ লিটার বরাদ্দ থাকলে চালক ৮ বা ৯ লিটার তেল নেন এবং বাকি তেলের জন্য টাকা জমা রাখেন। পাম্পের লোকেরা কাগজে হিসাব লিখে রাখেন এবং মাসের মাঝামাঝি বা শেষে মূল চালককে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এই অর্থের ভাগ পান কিছু চালক, ইউনিয়নের নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কার কাছে কত টাকা গেছে, সেই হিসাব পাওয়া যায়নি। পরিবহন চালক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আলম তালুকদার তেলের টাকা থেকে কমিশন পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, মাসে গড়ে ৫ হাজার ৮৪২টি ট্রিপ হয়। প্রতিটি ট্রিপে ৩ লিটার করে তেল সরানো হলে মাসে পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫২৬ লিটার। অক্টোবরের সরকারি খুচরা মূল্য প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা ধরে এই ডিজেলের বাজারমূল্য প্রায় ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা। একই হারে এক বছর চললে তা প্রায় ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা দাঁড়ায়।
২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর গুলিস্তানে রাস্তা পার হওয়ার সময় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে চাপা দেয় ডিএসসিসির একটি ময়লার গাড়ি। পুলিশ জানায়, গাড়ি চালাচ্ছিলেন রাসেল খান, যিনি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মী ছিলেন না এবং তাঁর গাড়ি চালানোর লাইসেন্সও ছিল না। আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত হয়ে তিনি গাড়ি চালানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তদন্তে গাড়ির দায়িত্ব হাতবদলের একাধিক ধাপ পাওয়া যায়। গাড়িটি বরাদ্দ ছিল ইরান মিয়ার নামে, কিন্তু এটি হারুনকে দেওয়া হয় এবং হারুন আবার চালাতে দেন রাসেলকে।
নাঈমের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন এবং বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবি জানান। নাঈমের বাবার করা মামলায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন বরখাস্ত চালক ইরান মিয়া, হারুন ও রাসেল। তবে নাঈমের বাবা শাহ আলম দেওয়ান বলেন, ‘মামলা করার পরই শেষ। কেউ আর খবর নেয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বহু বছর ধরেই চলছে।’
নাঈমের মৃত্যুর পর ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর নয়জন চালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে অবশ্য তাঁদের চাকরিতে বহাল করা হয়।
এর আড়াই বছর পর ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল মুগদার মদিনাবাগে ময়লার গাড়ির ধাক্কায় মারা যায় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মাহিন আহমেদ। করপোরেশনের আদেশে বলা হয়, ১১-৪২৮১ নম্বরের গাড়ির চালক কামাল নিজে না চালিয়ে রুবেলকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দায়িত্বে অবহেলার জন্য চালক ও দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর যাত্রাবাড়ীর কলাপট্টিতে প্রাণ যায় লন্ড্রির দোকানের কর্মী ইকবাল হোসেনের। পুলিশের ভাষ্য, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী। নাঈমের পর মাহিন, তারপর ইকবাল—তিনটি ঘটনায়ই দায়িত্বপ্রাপ্ত চালকের বদলে অন্যজন গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া দুর্ঘটনার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বাসাবো বৌদ্ধমন্দিরের সামনে দুজন নিহত হন। ২০১৮ সালে আরও দুটি দুর্ঘটনায় দুজন মারা যান। ২০২১ সালে ছয়টি ঘটনায় ছয়জন, ২০২২ সালে দুটি ঘটনায় দুজন, ২০২৩ সালে একটি ঘটনায় একজন এবং ২০২৪ সালে মাহিনের মৃত্যুর পর ২০২৫ সালে দুটি ঘটনায় তিনজন নিহত হন। এই হিসাবে ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত দুর্ঘটনার পরই লাইসেন্স ছাড়া কাউকে গাড়ি চালাতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই নির্দেশের পর এমন ঘটনা আর ঘটেনি।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামছুল হক বলেন, ময়লার গাড়ির চাপায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় শুধু চালককে দায়ী না করে মূল দায় সিটি করপোরেশনকেই নিতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাড়িগুলোর আদৌ ফিটনেস আছে কি না, চালকদের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে কি না বা অনুমোদিত চালকের পরিবর্তে অন্য কেউ গাড়ি চালাচ্ছে কি না। সংস্কার নিজের ঘর থেকে শুরু হলেই সমাধান টেকসই হবে এবং গৃহীত উদ্যোগগুলো মানুষের আস্থা অর্জন করবে বলে তিনি মনে করেন।

















