বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ রাখছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এই সম্ভাবনা তুলে ধরে সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে এশীয় অঞ্চলে বৈষম্য নিরসন এবং সরকারি সেবার মাধ্যমে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশনে ‘অর্থনৈতিক সমতায় অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অভিজ্ঞতা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, করোনা মহামারি এবং বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে নতুন করে প্রায় ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়েছিলেন। এ সময় তিনি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচিতে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে অনেক যোগ্য ব্যক্তি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন, আবার অনেক সময় অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়ে যান, যা সরকারি সহায়তার লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সামাজিক সুরক্ষাকে কেবল আর্থিক অনুদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাকশিল্পের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিপুল জনশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারে যুক্ত করার ফলে প্রবাসী আয় বেড়েছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ তাদের পারিবারিক আয় ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই অভিজ্ঞতা দারিদ্র্য বিমোচনকে টেকসই করার পথ দেখিয়েছে।
পরিশেষে তিনি সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘জিটুপি’ বা সরকার থেকে সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে নারীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
















