বাংলাদেশের সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার কারণে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম। জানাজার সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড়) তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে তিনি আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে গঠিত বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। এছাড়া ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। কর্মজীবনে তিনি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। পাশাপাশি নিজ জেলা পঞ্চগড়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রেও তিনি অবদান রেখে গেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী বেগম নুর আখতার, এক মেয়ে, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

















