রাজনীতি

বিজেপির ‘বন্দে মাতরম’ রাজনীতি: তিন ভুল ও গভীর সংকট

প্রতিবেদক
নিজের বাসাতেও বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন না দিলারা জামান নিজের বাসাতেও বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন না দিলারা জামান জাতি গঠনে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী জাতি গঠনে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার ভারতীয় হাইকমিশন: ভিসা দালালদের থেকে সতর্ক থাকুন ভারতীয় হাইকমিশন: ভিসা দালালদের থেকে সতর্ক থাকুন কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ছন্দে ফিরলেন হাসান মাহমুদ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ছন্দে ফিরলেন হাসান মাহমুদ ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি করল আবহাওয়া দপ্তর ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি করল আবহাওয়া দপ্তর পুলিশ প্রশাসনে পদোন্নতি ও পোস্টিং নিয়ে চলছে রমরমা সিন্ডিকেট বাণিজ্য পুলিশ প্রশাসনে পদোন্নতি ও পোস্টিং নিয়ে চলছে রমরমা সিন্ডিকেট বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: কোন দিকে মোড় নিতে পারে বর্তমান পরিস্থিতি? যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: কোন দিকে মোড় নিতে পারে বর্তমান পরিস্থিতি? তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি প্রতিহিংসায় নয়, ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী বিএনপি: ড. মঈন খান প্রতিহিংসায় নয়, ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী বিএনপি: ড. মঈন খান
সব খবর

ভারতের রাজনৈতিক মহলে বর্তমানে জোর আলোচনা চলছে যে, জাতীয়তাবাদ, বিশেষ করে জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ ইস্যুতে বিজেপি আবারও কংগ্রেসকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসের সরকারি পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে কেরালার কংগ্রেসদলীয় মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি সতীশন জাতীয় সংগীত বাদ দিয়েছিলেন। অথচ, অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে কংগ্রেস-শাসিত অন্য তিনটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার, রেবন্থ রেড্ডি এবং সুখবিন্দর সিং সুখু ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবকই গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে, নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সদর দপ্তরে যখন গানটি দ্বিতীয় স্তবক পেরিয়ে আরো এগিয়ে যায়, তখন উপস্থিত সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ সবার মুখেই বিরক্তি বা অস্বস্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছয় স্তবকের জাতীয় সংগীত নিয়ে কংগ্রেস তখন রীতিমতো দিশাহারা অবস্থায় ছিল। বিজেপি এই পরিস্থিতিকে বেশ উপভোগ করেছে। তাদের মতে, জাতীয়তাবাদ বা ধর্মের মতো বিষয় এলে কংগ্রেস যে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনে, তা আবারও প্রমাণিত হলো।

পরে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি যখন ‘বন্দে মাতরম’-এর মূল দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানায়, তখন বিজেপি আরও জোরালো আক্রমণ করে কংগ্রেসকে। তারা দলটির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ তোলে, কারণ গানটির পঞ্চম স্তবকে হিন্দু দেবী দুর্গা, কমলা (লক্ষ্মী) এবং বাণীর (সরস্বতী) কথা উল্লেখ আছে।

তবে, বিজেপির এই ‘বন্দে মাতরম’ রাজনীতিকে একটি ভুল শিক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনীতিতে লোকদেখানো জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িক মেরূকরণের ওপর জোর দেওয়া যে ভুল, তা তিনটি কারণে সমস্যা তৈরি করবে।

প্রথমত, এই দৃষ্টিভঙ্গি ইঙ্গিত দেয় যে, বিজেপি পরিস্থিতির প্রতিকূল হাওয়া বা আসন্ন চ্যালেঞ্জগুলো দেখতে অস্বীকার করছে। গত দুদিনের খবরের কাগজের শিরোনামগুলো দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। একটি শিরোনাম ছিল— ‘রাষ্ট্রপতি ভবন কর্তৃক তারেক রহমানের সফরবিষয়ক বিবৃতি ঘোষণা ও পরে তা প্রত্যাহার’। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কথা ঘোষণা করে মাত্র এক ঘণ্টা পরেই তা প্রত্যাহার করে নেয়। এই ভুল পদক্ষেপটি শুধু এ বিষয়টির দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করল যে, ঢাকা নয়াদিল্লিকে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রেখেছে। এই ঘটনা মনমোহন সিংয়ের সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের মতো পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে ‘ডান হাত কী করছে তা বাম হাত জানত না’। এটি ভারতের ‘বিশ্বগুরু’র ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ভিন্ন নয়। একটি হিন্দি পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় অক্ষরে শিরোনাম ছিল— ‘উৎসবের আগে চিনির দাম আকাশচুম্বী : প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি, এক মাসে বেড়েছে ১৭ টাকা’। আরেকটি হিন্দি পত্রিকা খুলতেই চোখে পড়ে— ‘থানায় সাত ঘণ্টা ধরে ধরনায় বসলেন রাহুল, এরপরই ২০০টি পেলেট বা ছররা গুলিতে আহত যুবকের এফআইআর নথিভুক্ত করা হলো।’ অর্থাৎ, জাতীয় রাজধানীতেও একটি এফআইআর করার জন্য সাধারণ মানুষকে বিরোধীদলীয় নেতার সাহায্য নিতে হচ্ছে। বাণিজ্য পাতায় আরও একটি শিরোনাম ছিল— ‘ভ্রমণ থেকে রান্নাঘর—সর্বত্রই মুদ্রাস্ফীতির আঁচ : চাল, বিস্কুট, গাড়ি, টায়ার ও রঙের দাম ১৮ শতাংশ বেড়েছে।’ প্রথম পাতার আরেকটি শিরোনাম ছিল— ‘কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগের বাস্তবতা : গত এক দশকে শূন্যপদের সংখ্যা ৪ দশমিক ২ লাখ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ২৪ লাখে দাঁড়িয়েছে।’

এসব খবরের ভিড়ে ‘বন্দে মাতরম’-সংক্রান্ত শিরোনামটি কোথায় মানায়? সাধারণ মানুষের জীবনে যা ঘটছে এবং যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা বিষয়টিকে যেভাবে দেখছেন—এর মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে। সরকার ও বিজেপি পরিচালনাকারীরা কি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, ১২ বছরের শাসনকাল নিয়ে মানুষের মনে যেসব প্রশ্ন রয়েছে, তার সবকিছুর উত্তর শুধু অতিরিক্ত চারটি স্তবক যোগ করলেই পাওয়া যাবে? ‘জেন-জি’র ভাষায় বলতে গেলে, এটি এক ধরনের অবাস্তব বা বিভ্রান্তিকর রাজনীতি। যারা সবকিছু পরিচালনা করছেন, তারা যদি বিষয়টি জানেনই, তবে কেন তারা জাতীয় সংগীত নিয়ে পড়ে আছেন? তার চেয়ে বরং শাসনকাজ এবং সেসব সমস্যার সমাধানে শক্তি নিয়োগ করা উচিত নয় কি, যেসব কারণে মানুষ আজ প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে? বিজেপি সরকারের এ ধরনের আচরণের পেছনে শুধু দুটি কারণই থাকতে পারে—অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস অথবা অসহায়ত্ব। তারা আত্মবিশ্বাসী কারণ তারা জানে কীভাবে নির্বাচনে জিততে হয়। আবার তারা অসহায়ও, কারণ এর বাইরে অন্য কোনো পথ তাদের জানা নেই।

বিজেপির ‘বন্দে মাতরম’র রাজনীতি নিয়ে দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো এর মধ্যে নিহিত একটি ইঙ্গিত, যেখানে বোঝানো হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ সম্মিলিতভাবে মহাত্মা গান্ধী, সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জওহরলাল নেহরু এবং সর্দার প্যাটেলের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। ভারতের ‘জাতীয় সংগীত’ হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’র শুধু দুটি স্তবক গ্রহণ করার আগে স্বাধীনতা সংগ্রামী, নোবেলজয়ী এবং জাতীয় সংগীতের রচয়িতারা মিলে দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দুটি স্তবকের গানটির প্রস্তাবই সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু তাদের দুটি স্তবকের মধ্যে সীমিত রাখার সিদ্ধান্তটি প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে মোদি-শাহ কার্যত এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, গান্ধী, ঠাকুর, বসু, প্যাটেল ও নেহরুর চেয়ে তারাই অধিকতর জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক। স্বাধীনতার পর গণপরিষদ ‘বন্দে মাতরম’র দুটি স্তবককেই আমাদের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করেছিল। অথচ আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের স্বাক্ষরিত সাধারণ এক আদেশের মাধ্যমেই তা পরিবর্তন করে ছয় স্তবকে উন্নীত করা হলো। এটি ভারতের সংবিধানপ্রণেতাদের অবমাননা করারই শামিল।

বিজেপির ‘বন্দে মাতরম’ রাজনীতি নিয়ে তৃতীয় সমস্যাটি হলো—এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দ্বারা চালিত বলে মনে হয়। মোদি ২৪ বছর ধরে (প্রথমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে) প্রতিটি স্বাধীনতা দিবসে আনন্দের সঙ্গেই ওই দুটি স্তবকের গানটি গেয়েছেন। তাহলে ২৬তম বছরে এসে হঠাৎ কী এমন ঘটল? এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, যে সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তারা কি আদৌ এমন কোনো মেরূকরণমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে?

একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ফেব্রুয়ারি মাসের একটি আদেশে বলা হয়েছে, ‘দেশের সব স্কুলে দিনের কার্যক্রম জাতীয় সংগীত সমবেতভাবে গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাদের কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীত গাওয়াকে জনপ্রিয় করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে…।’ আপাতদৃষ্টিতে এটিকে একটি নিরীহ পরামর্শ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বিজেপির কোনো অতি-উৎসাহী মুখ্যমন্ত্রী যদি সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, মাদরাসা, মিশনারি স্কুল—অর্থাৎ ‘সব স্কুলে’ ছয় স্তবকের জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করে দেন, তখন এটি প্রতিটি গ্রাম, মফস্বল ও শহরে বড় ধরনের সমস্যা বা সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।

নিজের বাসাতেও বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন না দিলারা জামান নিজের বাসাতেও বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন না দিলারা জামান জাতি গঠনে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী জাতি গঠনে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার ভারতীয় হাইকমিশন: ভিসা দালালদের থেকে সতর্ক থাকুন ভারতীয় হাইকমিশন: ভিসা দালালদের থেকে সতর্ক থাকুন কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ছন্দে ফিরলেন হাসান মাহমুদ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ছন্দে ফিরলেন হাসান মাহমুদ ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি করল আবহাওয়া দপ্তর ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি করল আবহাওয়া দপ্তর পুলিশ প্রশাসনে পদোন্নতি ও পোস্টিং নিয়ে চলছে রমরমা সিন্ডিকেট বাণিজ্য পুলিশ প্রশাসনে পদোন্নতি ও পোস্টিং নিয়ে চলছে রমরমা সিন্ডিকেট বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: কোন দিকে মোড় নিতে পারে বর্তমান পরিস্থিতি? যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: কোন দিকে মোড় নিতে পারে বর্তমান পরিস্থিতি? তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি প্রতিহিংসায় নয়, ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী বিএনপি: ড. মঈন খান প্রতিহিংসায় নয়, ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী বিএনপি: ড. মঈন খান
সব খবর