সাউথ এশিয়ান কালচারাল স্টাডিজ জার্নালের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ গ্রন্থ ‘বিটুইন কেয়স অ্যান্ড কোহেশন: অ্যান এক্সপ্লোসিভ রি-ইমার্জেন্স অব ঢাকা’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের ভ্রুম্যান কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, স্থপতি, গবেষক, লেখক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন তাসলিম শাকুর ও ইমামুর হোসেন এবং এটি সাউথ এশিয়ান কালচারাল স্টাডিজ-এর উদ্যোগে ও একাডেমিক প্রেস অ্যান্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরির সহযোগিতায় প্রকাশিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন শিরীন পারভীন হক। তিনি বলেন, ঢাকাকে কেবল ভৌত অবকাঠামো বা অপরিকল্পিত নগরায়ণের দিক থেকে না দেখে মানুষের জীবন, স্মৃতি, অধিকার ও সংগ্রামের জায়গা থেকে উপলব্ধি করা জরুরি। গ্রন্থের সম্পাদকদ্বয় তাসলিম শাকুর ও ইমামুর হোসেন জানান, শহরটিকে স্থির কোনো একক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজনৈতিক পরিবর্তন, জনআন্দোলন, অনানুষ্ঠানিক বসতি, খাদ্যসংস্কৃতি এবং দৈনন্দিন নগরজীবনের বহুমাত্রিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গ্রন্থে।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিনুল করিমসহ গ্রন্থের বেশ কয়েকজন প্রবন্ধ লেখক উপস্থিত ছিলেন। যারা সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তাদের গবেষণাকর্ম ও সম্পাদনায় অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। গ্রন্থের লেখক তালিকায় আরও রয়েছেন নুব্রাস সামায়ীন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, মো. রাশেদ ভূঁইয়া, পারিসা শাকুর, সানজিদা আহমেদ সিনথিয়া, সৈয়দা জাফরিনা ন্যান্সি, ফারিবা সামিয়া অমি, ফজিত শেখ বাবু, মো. ইফতেখার রশিদ, আদিল মোহাম্মদ, মাতলুবা খান, থমাস অ্যানিউরিন স্মিথ, নোভা আমিন খান, ডেইজি ওর্তেগা রোমান, তানভীর খান, সুনীলা আহমেদ, সুশীল ঘোষ ও সামিহা নওশিন।
গ্রন্থের প্রবন্ধগুলোতে ঢাকার রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র আন্দোলন, উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন, জেনেভা ক্যাম্পের মহররম, পথের খাবার এবং শিশু ও তরুণবান্ধব নগরের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে। নবনীতা ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা’ ও ‘সংহতি’—শিরোনামের এই দুটি বিষয় পরস্পরের বিপরীত নয়, বরং এগুলোর টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই ঢাকা ক্রমাগত নতুনভাবে গড়ে ওঠে।
আয়োজকরা বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগ এবং বিশেষ করে বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নাজমুল ইমামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আয়োজকদের মতে, এই গ্রন্থটি ঢাকা নিয়ে নতুন করে গবেষণা ও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রপাত হিসেবে কাজ করবে।
















