চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) শুধু পরিচালনব্যবস্থা পরিবর্তন করলেই বন্দরের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ব্যাংক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বিত ডিজিটাল সেবা চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর টার্মিনালের কার্যসম্পাদন, জাহাজের অপেক্ষার সময়, পণ্য ওঠানো-নামানোর গতি, সেবামাশুল ও শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর : জাতীয় স্বার্থে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কোথায়? নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা প্রদান, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি উঠে আসে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ আবদুর রহিম।
প্রবন্ধে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল এনসিটি দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব, কৌশলগত নিরাপত্তা, দেশীয় ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও রাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পদের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা শ্রমিকদের অধিকার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
চুক্তির স্বচ্ছতা ও আর্থিক জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ১৫ বছরে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আয়, পরিচালন ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব বণ্টনের শর্ত বিবেচনা করে নিরপেক্ষ অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। চুক্তির জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ধারা, ট্যারিফ কাঠামো, জরিমানার বিধান ও বিরোধ নিষ্পত্তির শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। সেই সঙ্গে সংসদে উন্মুক্ত আলোচনা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত জাতীয় বন্দর নীতিমালা ও অংশীদারত্ব আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা ও ডিজিটাল তথ্যের সুরক্ষায় বন্দরের অপারেশনাল ডাটাবেজ এবং বাণিজ্যিক তথ্যের ওপর রাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সংরক্ষণ, নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইউনুছ তৈয়বী যুক্তিবাদীর সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক ছিলেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ। এছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান ফরিদ, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, মাস্টার আবুল হোসাইন, এম মহিউল আলম চৌধুরী ও মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ অন্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

















