সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং বাস্তবসম্মত প্রকল্পের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোকে সমন্বিত করে সামগ্রিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বড় খালগুলোকে নৌযান চলাচলের উপযোগী করা, খালের দুই পাড়ে হাঁটার পথ নির্মাণ এবং উপযুক্ত স্থানে সাইকেল ট্র্যাক তৈরি। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে, কারণ সমন্বয়ের অভাবে অতীতে অনেক প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন ছিল।
সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম এবং জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। মেয়র জানান, নগরীতে চিহ্নিত ১৩০টি খালের মধ্যে কয়েকটির কাজ শেষ হয়েছে এবং আরও ৪১টি খাল উন্নয়নের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। বর্ষার আগে নালা ও খাল পরিষ্কারের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার বিষয়টি প্রকল্পের অংশ হতে হবে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে, যা অর্থের অপচয় রোধ ও কাজের গতি বাড়াবে।
সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী জানান, চলমান মেগা প্রকল্পটি শেষ হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম স্লুইসগেট ও রেগুলেটর রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের পরামর্শ দেন।

















