খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মঠবাড়ী গ্রামটি একসময় সবুজ-শ্যামল এবং মনোরম পরিবেশের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আয়লার আঘাতে শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে যায় পুরো গ্রাম। টানা তিন বছর জোয়ার-ভাটার কবলে পড়ে গ্রামটির মাঝখান দিয়ে একটি বড় খালের সৃষ্টি হয়, যা গ্রামটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। এই ঘটনার পর ১৭ বছর পার হয়ে গেলেও খালটির ওপর কোনো স্থায়ী সেতু বা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ড্রামের ভেলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৭০ মিটার প্রশস্ত এই খালটির পশ্চিম পাড়ে প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। খালের দুই পাড়ে কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী রশি টেনে টেনে ড্রামের ভেলায় পারাপার হচ্ছেন। বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়লে এই যাতায়াত আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যা নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমা খাতুন জানায়, প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে এই ভেলায় চড়ে স্কুলে যেতে হয়। একইভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া জানায়, একবার ভেলা উল্টে নদীতে পড়ে তার বইপত্র ভিজে গিয়েছিল এবং স্থানীয়দের সহায়তায় সে প্রাণে রক্ষা পায়। অভিভাবক হোসনেয়ার খাতুন জানান, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে তারা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকেন এবং দ্রুত স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রণজিৎ কুমার মন্ডল জানান, যাতায়াত সমস্যার কারণে অনেক অভিভাবক এখন আর এই স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করতে আগ্রহী নন। মহারাজপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু সাঈদ জানান, এই খালের গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বরাদ্দে কাজ করা সম্ভব নয়। তিনি এখানে একটি ভাসমান সেতু বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ জানান, প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

















