কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল-সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাও পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা কাঁচিকাটা-হরিশ্চর সড়কের পাশে অটোরিকশাটি দেখে আশপাশে খোঁজ করলে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে মরদেহটি দেখতে পান। স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বণিক জানান, মরদেহ দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। উদ্ধারের সময় কিশোরীর গলায় গামছা প্যাঁচানো এবং মুখে মাটি লেগে ছিল।
নিহত কিশোরীর গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায় হলেও তার পরিবার কুমিল্লা শহরে বসবাস করে। সে শহরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে সে আর স্কুলে যেত না। তার বাবা কুমিল্লায় চাকরি করেন। তিনি জানান, ৪ অক্টোবর মেয়ে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। বুধবার রাত পৌনে দুইটার দিকে সে তার বাবাকে একটি খুদে বার্তা ও ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠায় এবং সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে বলে। বাবা জানান, তিনি তখন ঘুমে ছিলেন, সকালে মেসেজ দেখে লাইভ লোকেশনে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হতে দেখেন।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, মেয়েটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজার গিয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে সে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। সেখান থেকে লালমাইয়ের ঘটনাস্থলে সে কীভাবে গেল তা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং পরিত্যক্ত অটোরিকশাটিকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। অটোরিকশার ভেতর পোশাক ও ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেলেও সেগুলো ওই কিশোরীর কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। শোকাহত বাবা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন ও জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

















