কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর দক্ষিণপাড়া প্রজেক্ট এলাকায় ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক নারীকে জবাই করে হত্যার পর তার লাশ ১০ টুকরো করার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে এ ঘটনার পর স্থানীয়রা লাইলী বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। নিহত ফরিদা ইয়াসমিন পৌর এলাকার ফতেহাবাদ গ্রামের মফিজ ভূঁইয়ার স্ত্রী। আটক লাইলী বেগম একই এলাকার চাপানগর গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোট আলমপুর দক্ষিণপাড়া প্রজেক্ট এলাকায় মফিজ ভূঁইয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন লাইলী বেগম ও তার স্বামী। শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় লাইলী বেগম, তার স্বামী এবং রবিউল, সোহেল ও ইমনসহ মোট পাঁচজন মিলে বাড়ির মালিকের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনকে জবাই করে হত্যা করে। এরপর তারা লাশটি ১০ টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনের একটি গলিতে ফেলে রাখে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে লাইলী বেগম পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের ১০টি টুকরোর মধ্যে ৯টি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও এখনো নিহতের মাথা খুঁজে পায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী বেগম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার স্বামী আবুল কালাম ছাড়াও রবিউল, সোহেল ও ইমন জড়িত ছিলেন। তবে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, লাইলী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লাশের মাথা উদ্ধার ও জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

















