জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের কবরগুলো অবহেলার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আয়োজিত এক দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে তারা শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় কবরগুলো স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জোর দাবি জানান। ‘শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া শহীদদের স্বজন এবং জুলাইয়ে আহত ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
নিহত মো. আসাদুল্লাহর স্ত্রী ফারজানা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তার স্বামীর শেষ চিহ্নটুকু যেন সংরক্ষণ করা হয়, যাতে তাদের ছয় বছরের মেয়ে আরিফা জাহান লিলি বড় হয়ে বাবার কবরটা অন্তত দেখতে পারে। পেশায় গাড়িচালক আসাদুল্লাহ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ২৪ জুলাই তাকে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। ফারজানা আক্ষেপ করে জানান, কবর শনাক্ত হলেও টানা বৃষ্টিতে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তার স্বামীর ইচ্ছা ছিল ঘরের পাশে দাফনের, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। এভাবে অবহেলায় থাকলে অচিরেই কবরের আর কোনো চিহ্ন থাকবে না।
একই অনুষ্ঠানে যাত্রাবাড়ীতে নিহত পোশাক ব্যবসায়ী সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম তার ছেলের খুনিদের বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ১৮ জুলাই চা খাওয়ার কথা বলে বের হওয়া ছেলে আর ফেরেনি। তিনি বেঁচে থাকতেই ছেলের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চান। শনির আখড়ার বাসিন্দা শহীদ রফিকুল ইসলামের বোন জাহেদা করিম জানান, বাবা-মা ছাড়া রফিকুলকে তিনি নিজের সন্তানের মতো বড় করেছিলেন, এখন তার ভাই হারানোর শোক তাকে তাড়া করে ফিরছে।
দোয়া অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ ছাড়া বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের পক্ষে এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। শহীদদের যথাযথ সম্মান ও নামফলক সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে কোনো সংকটে সাধারণ মানুষ আর রাজপথে নামবে না। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী নাবিল হোসেন, ভয়েস ফর রিফর্মের সংগঠক ফাহিম মাসরুর, বৈষম্যবিরোধী শহীদ-আহত সেলের সদস্য তামিম আহমেদ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত নাছির খান ও রাহাত আহমেদ। বক্তারা শহীদদের কবর সংরক্ষণ, মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।
আসাদুল্লাহ (৩১) ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
দুনিয়ায় আর কিছু চাই না।’শনির আখড়ার বাসিন্দা শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯) ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

















