বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। এই হারের পর দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি শেয়ার করেছেন। তবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার ডেনিলসন অলিভিয়েরা মনে করেন, এই বার্তাগুলো ছিল খুবই প্রাণহীন এবং এগুলো সমর্থকদের সঙ্গে দলের দূরত্ব কমাতে কোনো ভূমিকা রাখছে না।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের প্রতিনিধিত্ব করা এই লেফট উইঙ্গার বলেন, এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় খেলোয়াড়রা তাদের জনসংযোগ বা পিআর টিমের তৈরি করা লেখা পোস্ট করেন। এটি প্রচলিত প্রথা হলেও, কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রকৃত কষ্ট, হতাশা বা আবেগ পুরোপুরি ফুটে ওঠে না। ফলে সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয় না।
বর্তমানে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করা ডেনিলসন এখন বিশ্বকাপের বাকি অংশ কাভার করতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা খরার কষ্ট খেলোয়াড়দের হৃদয়েও আছে। কিন্তু যোগাযোগের মাধ্যমটি বদলানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
ডেনিলসন খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি বড় ভিডিও তৈরি করে মন খুলে কথা বলা উচিত। তিনি আরও বলেন, তোমরা যা লিখেছ, তা মুখে বলো—যদি লেখাগুলো তোমরাই লিখে থাকো। অনেক সময় এজেন্সি লিখে দেয়, সেটা সমস্যা নয়। কিন্তু ভিডিওর মাধ্যমে মানুষের তোমাদের সেই দুঃখ ও হতাশা অনুভব করা প্রয়োজন। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের আবার সেলেসাওদের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে এবং খেলোয়াড়দের অনুভূতি সমর্থকদেরও অনুভব করতে দেওয়া উচিত।
সবশেষে ডেনিলসন জোর দিয়ে বলেন, আমি নিশ্চিত যে তোমরা এই হারে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছ। তবুও শুধু লেখা পোস্ট করলে সমর্থকদের কাছে তা দায়সারা মনে হয়। তাই সামনে এসে ভিডিওতে বলো, বন্ধুরা আমি খুব খারাপ অনুভব করছি, আমরা হেরে গেছি।

















