ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে জামায়াতের জোটসঙ্গী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগেই এই সিটিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এনসিপির নীতিনির্ধারক ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী ঘোষণার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে সাদিক কায়েমের নাম চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী হতে চাইলেও জামায়াতের আপত্তির কারণে আসিফ মাহমুদ শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নেননি। এনসিপির শীর্ষ নেতাদের দাবি, তৎকালীন উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগের কারণে জামায়াত তাকে সমর্থন দিতে রাজি ছিল না। একইভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের এক সদস্যের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের সময় আসিফ মাহমুদের ভূমিকা জামায়াতের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল বলে দলটির পক্ষ থেকে তার প্রতি তীব্র আপত্তি রয়েছে। যদিও জামায়াতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সেই সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এদিকে, এনসিপি বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য একক প্রস্তুতির দিকেই মনোযোগী। গত ২৯ মার্চ তারা ঢাকা ও উত্তরসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল, যেখানে ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদের নাম রাখা হয়। তবে নির্বাচনের তফসিল এখনো পরিষ্কার না হওয়ায় জোট বা সমঝোতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারি দলের বাইরে বিরোধী শক্তির বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি আসিফ মাহমুদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মামুনুল হক জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও সম্প্রতি তার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে। আসিফ মাহমুদ ব্যক্তিগতভাবে মামুনুল হকের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রক্রিয়া হলে তা দলীয় উদ্যোগেই হবে। তিনি মনে করেন, সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে লড়ে ৬টিতে জয়ী হলেও বাকি ২৭০টি আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় তৃণমূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই স্থানীয় নির্বাচনে অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। ২২ জুন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তাকে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করার পর ১৩ জুলাই তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। জামায়াত তাকে প্রার্থী করার পর আসিফ মাহমুদের নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী এবং শেষ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা বোঝাপড়া হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সেই সমঝোতা জামায়াত জোটের বাইরে হবে কি না, তা তফসিল ঘোষণার সময় আরও স্পষ্ট হবে।

















