দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও সদর উপজেলায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এক কিশোরী ও এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, নিহতদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের শ্রীমহন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা পরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে এবং দশম শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়া রানী দাসের (১৪) মরদেহ নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।
একই দিন সন্ধ্যায় দিনাজপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের উমরপাইল জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে কাকন রায়ের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কাকন বোচাগঞ্জ উপজেলার একই গ্রামের পরিতোষ রায়ের ছেলে এবং গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। সে তার নানা নেপাল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ না ফেরায় নানাবাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। সকালে প্রিয়া রানী দাসের মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় স্বজনরা কাকনকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির অদূরে আত্রাই নদীর ধারে একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় কাকন রায়ের মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় শশরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির আনাফ জানান, কাকন নানাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত এবং স্থানীয়ভাবে তাদের প্রেমের সম্পর্কের কথা শোনা যায়। সোমবার রাতে মেয়েটি আত্মহত্যা করার পর মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শ্মশানে মেয়েটির সৎকার চলাকালীন কাকন আত্মহত্যা করে। স্থানীয়দের অনেকে দাবি করছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় দুই পরিবার সম্পর্কটি মেনে নেয়নি, যার ফলে আবেগপ্রবণ হয়ে তারা এ পথ বেছে নিয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রিয়া রানী দাসের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরনবী কাকন রায়ের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রিয়া রানী দাসের মৃত্যুর পরই এই ঘটনাটি ঘটেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

















