ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সমুদ্র সৈকতগুলোতে ‘ভিব্রিও’ নামে পরিচিত এক প্রাণঘাতী ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সমুদ্রের পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে ব্যাকটেরিয়াটির বিস্তার দ্রুত হওয়ায় বিভিন্ন দেশে কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) জানিয়েছে, স্যাটেলাইট তথ্য ও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বাল্টিক সাগরসংলগ্ন অঞ্চলসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের উপকূলে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও সুইডেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এছাড়া জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি স্পেনের কয়েকটি সৈকতে ভিব্রিওর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া সাধারণত উষ্ণ ও লবণাক্ত বা আধা-লবণাক্ত পানিতে বংশবিস্তার করে। মানুষের শরীরে কোনো কাটাছেঁড়া বা ক্ষত থাকলে তার মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়া দূষিত সামুদ্রিক খাবার গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, বমি, পেটে ব্যথা ও জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় ক্ষতস্থান থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে রক্তে সেপসিস তৈরি হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হওয়ার ঝুঁকি রাখে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এই ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। সতর্কতা হিসেবে শরীরে নতুন কোনো ক্ষত, অস্ত্রোপচারের দাগ বা ট্যাটু থাকলে সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ শেলফিশ, বিশেষ করে অয়েস্টার খাওয়ার ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

















