টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমু বিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী, চিরিংগা ও হারবাং এবং মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যার ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফসলি জমি ও চিংড়ির ঘেরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত নদীটি বিপৎসীমা ১১.৮০ মিটারের চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১১.৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ি এলাকার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসন মাইকিং করছে। চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীদ দেলোয়ার জানান, পরিস্থিতি তদারকির জন্য জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উজানের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মঈনুল আমিন বলেন, চার দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না এবং রাস্তাঘাটে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সাহারবিলের কৃষক সৈয়দ আলম জানান, আমনের বীজতলা ও সবজি খেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চকরিয়া পৌরসভার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, আগামী দুই দিনও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

















