ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে নাশকতার চেষ্টা এবং ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী পাইলট হামাম আল হামামি ইসরাইলে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানি নাগরিক হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণকারী এই পাইলট সিরিয়ায় উগ্রপন্থি চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়েছিলেন। ওমানে থাকাকালীন উগ্রপন্থি মতাদর্শ গ্রহণের আশঙ্কায় তাকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাই তাকে নিয়োগ দেয়।
সিএনএনের তথ্যমতে, হামাম আল হামামি ফ্লাইদুবাইয়ে মাত্র আট মাস কর্মরত ছিলেন। তার একটি মুছে ফেলা লিংকডইন প্রোফাইলে দেখা যায়, তিনি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করার পর রয়্যাল এয়ার মারকো হয়ে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। ঘটনার নয় ঘণ্টার মধ্যে তার ওই প্রোফাইল থেকে সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি পোস্টে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিট থেকে ইসরাইলি এয়ারলাইন এল আল-এর বিমানকে জুম করার ভিডিও ছিল। ভিডিওর শেষে ওসামা বিন লাদেন ও আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবির পাশাপাশি ২০০৯ সালে আত্মঘাতী হামলাকারী হামাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওয়ির ছবিও ছিল। অন্য একটি পোস্টে মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের পবিত্র স্থান নিয়ে এআই-জেনারেটেড ছবি ও উগ্রবাদী কবিতা পাওয়া গেছে।
গত সপ্তাহের শুরুতে যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল এবং এতে ২৪ শিশুসহ ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাতের পর বিমানটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২৩ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে ১৫ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। আলহামামির এক্স অ্যাকাউন্টের পোস্টগুলো থেকেও তার চরমপন্থী ও নারীবিদ্বেষী মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালে আলহামামি ওমান এয়ারের সহকারী পাইলট প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করছিলেন। সে সময় তার কাছে উগ্রপন্থি বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। এরপর তাকে ওই এয়ারলাইনসে প্রশাসনিক পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হলেও নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর তাকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইন ফ্লাইদুবাই তাকে নিয়োগ দেয়। এর ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে সংবেদনশীল এই রুটে বিমান চালানোর সুযোগ পান তিনি। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, আলহামামি ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি ইসরাইলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ওদিকে, সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলহামামি ফ্লাইদুবাইয়ে মাত্র আট মাস কাজ করেছিলেন। মুছে ফেলা একটি লিংকডইন প্রোফাইলে হামাম আলহামামি নামের এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তিনি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে তিনি রয়্যাল এয়ার মারকোতে যোগ দেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেটিও ছেড়ে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন বলে ওই প্রোফাইলে উল্লেখ ছিল। ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টার মধ্যে ওই প্রোফাইল থেকে দুটি পোস্ট দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। দুটিই ছিল সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট।

















