অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ছোট ছেলে সাব্বির জামান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাবাকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাব্বির জামানের দাবি, গত ১৭ বছর ধরে যে ধরনের পরিস্থিতি চলে এসেছে, এখনো সেই একই ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় সরকার তাদের হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। তিনি তার বাবার সাম্প্রতিক ফেসবুক লাইভ ও অন্যান্য বক্তব্যগুলো যাচাই করে দেখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজের বাসভবন থেকে ডিবি পুলিশ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে যান। এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এছাড়া সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় রয়েছে।
গ্রেপ্তারের আগে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় আখতারুজ্জামান জানিয়েছিলেন যে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে জনগণের অধিকার ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বাসিন্দা আখতারুজ্জামান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। সবশেষে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

















