ফ্রান্সে শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। সহিংসতা, সরকারি স্থাপনায় হামলা এবং যেকোনো ধরনের ভাঙচুর রোধে মোট ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা এসব সহিংসতায় জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুনেজ জানান, জনসমাগমস্থল এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় বিশেষায়িত স্থল ও আকাশপথের ইউনিটগুলো কাজ করবে। নজরদারির অংশ হিসেবে ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, সম্ভাব্য সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর ওপরও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিক্ষোভের আড়ালে সহিংসতা সৃষ্টির কোনো অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীকে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভের সময় কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যে ফ্রান্সের প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগে এবং প্যারিস পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এসব ইউনিটের মূল লক্ষ্য হলো গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করা।
ফ্রান্সে বিক্ষোভ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ হলেও বড় ধরনের সমাবেশে প্রায়ই সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও সরকারি স্থাপনায় হামলার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। এ কারণে সরকার আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও শনিবারের এই বিক্ষোভের আয়োজক, সুনির্দিষ্ট দাবিদাওয়া বা সম্ভাব্য জনসমাগম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ হলো শান্তিপূর্ণ সমাবেশকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা।

















