দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে নিরসন করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রায় দুই বছর সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার দুপুরে সিলেটে একটি জেলা কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপন এবং পাইপলাইন বসানোর মতো অবকাঠামোগত কাজগুলো সম্পন্ন করতেই এই সময়ের প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেন যে, বর্তমানে শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট রয়েছে এবং বাসাবাড়িতেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে বড় জাহাজে করে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর এবং ভাসমান ইউনিটের মাধ্যমে তা গ্যাসে রূপান্তর করে সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে সংকট আরও তীব্র হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি ইউনিটের একটিতে গ্যাস ভরা সম্ভব হয়নি এবং অন্যটির বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত পাঁচ থেকে দশ দিনে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বর্তমানে একটি বয়লার মেরামত করা হয়েছে এবং অন্যটি মেরামতের কাজ চলছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে এক মাস আগের পরিস্থিতিতে ফিরে আসা সম্ভব হবে এবং শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, বর্তমানে জ্বালানির দৈনিক চাহিদা সরবরাহের তুলনায় দ্বিগুণ। জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কূপ খনন করা হলে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে, যার জন্য দুই বছর সময় প্রয়োজন। এছাড়া মৌসুমভেদে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা কম-বেশি হয় বলে জানান তিনি।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

















