রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদক নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এলোপাতাড়ি গুলিতে এক নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া কুপিয়ে আহত করা হয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য ওমর নবী বাবুকে। গতকাল রোববার রাতে স্বামীবাগ মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের গলিতে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাত পৌনে আটটার দিকে ২০ থেকে ২৫ জন লোক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। তারা দোকানপাট বন্ধ করে দিতে বলে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মানুষজন ছোটাছুটি শুরু করে এবং দোকানদারেরা দোকান বন্ধ করে দেন।
গুলিবিদ্ধ তিনজন হলেন চা-দোকানি আলমগীর (৩৩), আশা আক্তার (২০) এবং সিয়াম (১৮)। আশা তার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হন। খাবার দোকানের কর্মী সিয়াম দোকানের শাটার বন্ধ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল বিকেলে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকা থেকে মো. রাকিব (২২), মো. বিল্লাল (২৫) ও মো. রিফাত (২১) নামের তিন তরুণকে মাদক বিক্রির সময় আটক করেন। পরে তাদের বিএনপির স্থানীয় কর্মী মো. মনির হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে মারধর করা হয়। এরপর পুলিশ ডেকে তাদের ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ওই তিন তরুণকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় হামলার আশঙ্কা করছিল। উপস্থিত লোকজন পুলিশকে সহায়তা করতে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ২০ থেকে ২৫ জন তরুণের একটি দল এসে গুলি ছোঁড়া শুরু করে। এ সময় মনির হোসেনের কার্যালয়সহ আশপাশের পাঁচটি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার সময় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এলাকা অন্ধকার হয়ে যায় এবং আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদক নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. মনির হোসেন ও তাঁর ভাগনে রাসেল, মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ‘অটো সজলের’ লোকজনকে মারধর করেন। মনির হোসেনও তাঁর কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে ২০টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। সিআইডির পরিদর্শক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। কিছু আলামত সংগ্রহ করেছি। মেজর আলামত পুলিশ আগেই সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে।’
গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ, করাতিটোলা ও মুন্সিরটেক এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ওই এলাকায় মাদকের বিস্তার ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মাদক নিয়ে প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটে এবং মাদকসেবীরা ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত। স্থানীয় ব্যবসায়ী এস এম শফিক বলেন, ‘সকাল-সন্ধ্যা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। যুবসমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার এদিকে সুনজর না দিলে সামনের দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।’

















