কোনো তারকা খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা মাপার অন্যতম প্রধান সূচক হলো তার জার্সি বিক্রির পরিমাণ। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে হামজা চৌধুরীকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা জাতীয় দলের জার্সি বিক্রির পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজা বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামার পর থেকেই দেশের ফুটবলে এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কিট স্পন্সর ‘দৌড়’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা মোট ৩৫ হাজার জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করেছে। এই বিক্রির তালিকায় সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন হামজা চৌধুরী। ১ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের অফিশিয়াল জার্সিতে হামজার নাম ও নম্বর যুক্ত করে নিয়েছেন প্রায় ৫ হাজার সমর্থক। বর্তমানে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে তার জার্সির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। বিক্রির এই তালিকায় হামজার পরেই অবস্থান করছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদ আলম চৌধুরী জানান, হামজা বাংলাদেশ দলে আসার পর থেকে জাতীয় দলের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, গত দেড় বছরে প্রায় ৫ হাজার হামজার জার্সি বিক্রি হয়েছে এবং তার আগমনে দেশের ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই উন্মাদনা শুধু তার ব্যক্তিগত জার্সির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং জাতীয় দলের সামগ্রিক জার্সির প্রতিও আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
সম্প্রতি দৌড় নতুন ডিজাইনের জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন করেছে, যা নিয়েও সমর্থকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নতুন জার্সির জন্য এক হাজারের বেশি অর্ডার জমা পড়েছে। আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে জার্সির চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের লক্ষ্য হলো এক বছরে এক লাখ জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করা।
উল্লেখ্য যে, নতুন এই জার্সির নকশা তৈরিতে সমর্থকদের অংশগ্রহণ ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন থেকে ৩৪টি উপাদান বেছে নিয়ে চূড়ান্ত নকশা করা হয়েছে। হোম জার্সির মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে মাতৃভাষা বাংলাকে। বিশেষ প্রযুক্তি ও নকশায় তৈরি এই জার্সি আট মিনিটের মধ্যে ঘাম শুকিয়ে ফেলতে সক্ষম। খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি জার্সির দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং সমর্থকদের সংস্করণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০০ টাকা।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কিট স্পন্সর হিসেবে দৌড়ের সঙ্গে চুক্তি হয়।

















