আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে বিনা বিচারে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুমের শিকার এবং নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময়ে ৭০০-এরও বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। এছাড়া বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, এই মামলাগুলোর মধ্যে এমনও ঘটনা রয়েছে যেখানে বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হজ পালনরত মানুষ কিংবা দুই হাত হারানো প্রতিবন্ধীর বিরুদ্ধেও বোমা হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মতে, এসব দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের চূড়ান্ত ও সফল পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
আবৃত্তিচর্চার প্রসারে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত আবৃত্তিশিল্পকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা কবিতা ও সাহিত্যের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, আইনমন্ত্রীর সহধর্মিণী শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বক্তব্য রাখেন। আলোচনা শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

















