গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে অব্যাহত রয়েছে টানা ও ভারী বর্ষণ। এই অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যা নগরজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীর মাঝে উদ্বেগ থাকলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে স্বস্তির কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল দিয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এই সক্রিয় বায়ুর প্রভাবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

















