সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেন-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, হামলার পর অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সকে বিমানবন্দরের দিকে যেতে দেখা গেছে এবং পুলিশ বিমানবন্দর প্রবেশের সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে সৌদি কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, হুথিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তার দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবেই তারা এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছেন। আল-বুখাইতির অভিযোগ, সৌদি হামলায় ইয়েমেনের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, হাসপাতাল, বাজার এবং বিয়ের অনুষ্ঠান বা শোকসভার হলের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলো যে নিয়ম মেনে চলা উচিত, বিশ্বের অন্য যেকোনো স্থানের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এটি বিশ্বকে বোঝাতেই তারা এই হামলা চালিয়েছেন বলে তার দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনার জন্য একটি বড় ধাক্কা। যুবরাজ রিয়াদকে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ও ব্যবসার একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। চলমান এই হামলার ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

















