প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ৫৪। আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ৫৫। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিদ্যমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা যখন স্থবিরতার মুখে, তখন মস্কোর এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাত হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ ও সামরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সংঘাতের কারণে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। উচ্চমূল্য রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর তুর্কমেনিস্তানে কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতা বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে পুতিন ইরানের সংঘাত নিরসনে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে, ইরান এই সংঘাতের জন্য দায়ী নয় এবং তেহরান সমস্যা সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ৭ অক্টোবর এক টেলিফোন আলাপেও পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের সংকট প্রশমনে কূটনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ করতে চায় না। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়সংগত চুক্তিতে পৌঁছানো অসম্ভব নয়, তবে ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার রক্ষা তাদের কাছে প্রধান শর্ত। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস ও মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পেজেশকিয়ান জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও সংঘাত নিরসনে নতুন প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে এবং তেহরান তাতে কিছু সংশোধনও এনেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশ ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে, যা অক্টোবরে কার্যকর হয়। যদিও এটি কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতাসংবলিত সামরিক জোট নয়, তবুও দুই দেশ জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। তবে রাশিয়া সরাসরি ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়াবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চয়তা নেই। মস্কো মূলত কূটনৈতিক উপস্থিতি ও নিজস্ব ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখে এই মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্কোর সঙ্গে তেহরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের যোগাযোগের কারণে রাশিয়া মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই উদ্যোগে কতটা সাড়া দেবে বা ইরান কোন শর্তে রাজি হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাদের হাশেমির মতে, কার্যকর সমঝোতার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের পারস্পরিক আস্থা ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ প্রয়োজন, যা কেবল পুতিনের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না।

















