পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ভুল, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং কঠিন প্রশ্নপত্র প্রণয়নের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারাদেশের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আগামীকাল বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে হাজারো শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা অতিক্রম করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলকে ভেতরে আমন্ত্রণ জানালেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী কোমরসমান পানি পেরিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেকে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পেরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন। দুর্যোগের কারণে অনেকের বইপত্র নষ্ট হওয়ায় তারা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ও প্রশ্নপত্রের মান অস্বাভাবিক কঠিন হওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, কেবল পূর্ণ নম্বর দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়াই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান।
জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ওই দুই প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার মাত্র কয়েক মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে এবং প্রশ্ন প্রণয়নের কাজ আগের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন; তাদের ভাষ্য, প্রশ্ন ভুলের দায় এড়ানো যায় না। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞানের ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই ত্রুটি হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
বেলা ৩টার দিকে উত্তরার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে বুধবারের ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরপর তারা উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সড়ক থেকে সরে যান। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ও ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল, যদিও কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং দুর্যোগের বাস্তবতা উপেক্ষা করে পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রশ্ন প্রণয়নের অবহেলা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

















