পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক সিনেট অধিবেশনে দেশটির সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী এ কথা জানান। মন্ত্রী জানান, দণ্ডিত কোনো বন্দির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ইমরান খানের ক্ষেত্রেও সরকার সরকারি হাসপাতাল অথবা প্রয়োজনবোধে অন্য কোনো হাসপাতালের ব্যবস্থা করবে। এমনকি যদি তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তবে সরকার সেই ব্যবস্থাও করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এই আইনি সুবিধাটি কেবল একজন বন্দির জন্য নাকি অন্য সবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তা স্পষ্ট করার জন্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা চেয়েছে। ড. তারিক ফজল চৌধুরী এক্সে দেয়া পৃথক বিবৃতিতে জানান, ১৮ আগস্টের রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্য আদালতের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করা নয়, বরং আইনি বিষয়টি পরিষ্কার করা। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া না গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার সব ধরনের আইনি বিকল্প বিবেচনা করবে, যার মধ্যে শিফা হাসপাতাল বা প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সিনেট অধিবেশনে পিটিআইয়ের সিনেটর মোহসিন আজিজ সরকারের সমালোচনা করে কটাক্ষ করেন যে, সরকার যুক্তরাজ্যে হাসপাতাল কিনে নিয়েছে জেনে ভালো লাগছে। নওয়াজ শরিফের যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকার ইমরান খানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে না। অন্যদিকে, সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি নওয়াজ শরিফের উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা দেয়া হয়েছিল। পরিশেষে, মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী নিশ্চিত করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত বর্তমান প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে সরকার তা পুরোপুরি মেনে চলবে।

















