কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পাওয়ার পর দেশটির সামরিক বাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। তার এই বক্তব্যকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পিটিআইয়ের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জুলফিকার বুখারি বলেন, ইমরান খান হঠাৎ মুক্তি পেলে দেশের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। বরং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন। তিনি আরও বলেন, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো মানেই দেশের কল্যাণ নয়, তাই দেশের স্বার্থে তাকে নিজের যন্ত্রণা গিলে ফেলতে হবে। ২০২৩ সালে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে পিটিআইয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত হয়ে উঠেছিল এবং ইমরান নিজেও অতীতে আসিম মুনিরের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
এদিকে, মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। বুখারি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘নতুন আশার আলো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, হাসপাতালের সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় না করার আদালতের নির্দেশ পিটিআই মেনে চলবে। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে স্থানান্তরের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদন কারিগরি কারণে খারিজ হয়ে গেলেও, সেটি পুনরায় চ্যালেঞ্জ করা হবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পিটিআই মুখপাত্র দাবি করেন, বর্তমানে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। তবে তিনি আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুনির যদি দেশের পরিস্থিতি বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘নিরাময়ের হাত’ বাড়িয়ে দেন, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, বিশ্লেষক ও আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, দীর্ঘ কারাবন্দি অবস্থায় পিটিআইয়ের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ায় এবং অনেক নেতা আত্মগোপনে থাকায়, দলের বর্তমান নেতৃত্বের রাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বর্তমানে দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা জুলফিকার বুখারি জানান, গত আট মাস ধরে পিটিআই নেতারা ইমরান খানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাননি। ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি, সহিংসতায় উসকানি এবং বেআইনি বিয়েসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সাজা স্থগিত বা বাতিল হলেও একটি সাজা এখনো বহাল রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন ইমরান খান।
সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পিটিআই তাদের আন্দোলন থামিয়ে দিচ্ছে না। বুখারি জানান, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচিতে ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, পরিবার ও আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির দাবি জানানো হবে। তিনি আরও জানান, আত্মগোপনে থাকা অনেক শীর্ষ নেতা সরাসরি অথবা সংগঠনের মাধ্যমে এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবেন।

















