ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের ঘটনাপ্রবাহ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের ৭২ ঘণ্টার পরিস্থিতির পাশাপাশি অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, রয়টার্স বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাংলাদেশ সরকারের নজরদারি এবং ৫ আগস্ট ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে তার ভার্চুয়াল অডিও বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত এবং বাংলাদেশে ফেরার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই বিষয়ে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তার অডিও বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সৃষ্ট নতুন কূটনৈতিক অস্বস্তির বিষয়টি তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভূ-রাজনৈতিক সাময়িকী দি ডিপ্লোম্যাট তাদের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবকে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সাময়িকীটি উল্লেখ করেছে, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ নিবন্ধে আরও বলা হয়, একনায়কতন্ত্র থেকে বেরিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করলেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা পূরণ করাই নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

















