ইরান দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত নৌ ও অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরান কূটনীতির জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যারা আলোচনায় আগ্রহী নয়, তাদের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাঘাই আরও বলেন, ইরান বর্তমানে কার্যত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আশঙ্কার কারণেই ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বাঘাই জানান, আগামী সোমবার ওমানে ইরান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপদ পথ তৈরির বিষয়ে ইরান ও ওমানের সাম্প্রতিক আলোচনার অগ্রগতিও এই বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজে অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে। গত ১৪ জুলাই অবরোধ পুনরায় শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৯টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, জুনের মাঝামাঝি সময়ে অবরোধের প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছিল এবং নয়টি জাহাজকে চলাচলের অযোগ্য করে দিয়েছিল। এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।

















