মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার জন্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন তার সাম্প্রতিক অস্ত্র হাতে নেওয়ার ঘটনার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, নিজের নিরাপত্তার জন্যই তিনি অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি। তার ভাষ্যমতে, যতটুকু সময় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল, ততটুকুই তিনি অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেটি আর দৃশ্যমান হয়নি।
বেলা পৌনে ২টার দিকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে প্রবেশ করেন ইশরাক হোসেন। এরপর বেলা ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। এ সময় তিনি জানান, কাউকে আঘাত করে থাকলে তিনি দুঃখপ্রকাশ করছেন, তবে নিজের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি অটল। পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের দিন থেকেই তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার অনুরোধে সম্মতি জানিয়ে তাকে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূলে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ইশরাক হোসেন জানান, দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় তিনি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গিয়েছিলেন এবং স্থানীয় থানাকে অবহিত করেই এই মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন। তার দাবি, লাইসেন্স করা অস্ত্রটি সবসময় কোমরে থাকে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি তা হাতে নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেদিন ১৩টি জায়গা পরিদর্শন করেছিলেন যা প্রশংসনীয় ছিল, কিন্তু তার অস্ত্র হাতে নেওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সেই কর্মকাণ্ডগুলো গণমাধ্যমে চাপা পড়ে গেছে। এটি যাতে প্রধানমন্ত্রীর কাজে কোনো প্রভাব না ফেলে, সেই চিন্তা থেকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য যে, গত শনিবার গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ইশরাক হোসেন ও তার সঙ্গীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায় এবং তাদের অভিযানে এক তরুণকে লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও অস্বস্তি তৈরি হয়। সূত্র জানায়, রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে পদত্যাগ করলেও মাদকের বিরুদ্ধে তার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ইশরাক হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল।

















