মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। ইশরাক জানান, নিজের কর্মকাণ্ডের কারণে দল বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী যেন বিব্রত না হন, সেই চিন্তা থেকেই তিনি এই স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে গত দুই দিন ধরে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষাপটে তিনি আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের সুযোগ দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দল চায়নি, বরং তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। তবে মাদকবিরোধী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এখন থেকে তিনি আরও আগ্রাসীভাবে মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে ইশরাক হোসেন আলোচনার জন্ম দেন। এরপর গত রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তখন ইশরাক বিষয়টি ‘গুজব ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছিলেন। অবশেষে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।
সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছি।’তিনি বলেন, ‘গত ২ দিন একটি বিষয় নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে।
তবে ইশরাক হোসেন বিষয়টিকে ‘গুজব ও ভিত্তিহীন’ বলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় দাবি করেন।পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে জানান ইশরাক হোসেন।

















