মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই শত শত নেতাকর্মী নিয়ে তিনি প্রেসক্লাবে উপস্থিত হন। এসময় তার সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং অনেকের হাতে ফুলের তোড়াও দেখা যায়। নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে তিনি প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আবদুস সালাম হলে পৌঁছান। বেলা পৌনে ২টার দিকে তিনি কালো রঙের গাড়িতে করে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন ইশরাক হোসেন। তিনি লিখেছিলেন যে, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে এখন থেকে আরও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন এবং সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে দেশজুড়ে জেলা সফর করবেন। এছাড়া ফেসবুকে তার পদত্যাগ নিয়ে কিছু মানুষের উল্লাসসূচক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলনের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ডেকে পাঠান এবং পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

















