গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফা রোডম্যাপ ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করায় আটটি মুসলিম দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে।
বিবৃতিতে দেশগুলো অভিযোগ করেছে যে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত হামাসের সঙ্গে গাজায় যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের উদ্যোগও এতে ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছে। গত ৯ আগস্ট এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, হামাস যতক্ষণ না ‘প্রকৃত অর্থে নিরস্ত্র’ হচ্ছে, ততক্ষণ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না।
বোর্ড অব পিসের প্রধান নিকোলায় ম্লাদেনভ গত মে মাসে এই পরিকল্পনাটি প্রকাশ করেছিলেন। এতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে আইডিএফের সেনা প্রত্যাহার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব ছিল। প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের বিবৃতিতে দাবি করেন, হামাসের এই পরিকল্পনায় সম্মতি দেওয়া একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ এবং এটি তাদের নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে।
দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ইসরায়েলকে এই পরিকল্পনার আওতায় থাকা প্রতিশ্রুতি ও ব্যবস্থাগুলো পুরোপুরি মেনে চলতে বাধ্য করে। নেতানিয়াহুর প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও ‘কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান’ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের পূর্ণ সম্মতি নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের জোরালো ভূমিকা পালনের দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান, বাস্তবায়নে বাধা, বিলম্ব কিংবা কোনো ধরনের অসহযোগিতার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েল ‘সরাসরি ও সম্পূর্ণ দায়ী’ থাকবে। গাজার পরিস্থিতির অবনতি এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তার দায়ও ইসরায়েলের ওপর বর্তাবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শান্তি পরিকল্পনা দ্রুত এবং সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি গাজার দীর্ঘদিনের সংঘাতের অন্যতম প্রধান জটিলতা। বোর্ড অব পিসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ফলে যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখন নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

















