জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে উপাচার্যকে মুক্ত করে তার ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন।
শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিকেল তিনটা থেকে রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান শুরু করেন। এ সময় তাদের মূল দাবি ছিল, ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই পরিচালক নিয়োগ করা হোক।
ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহজালাল মাহমুদ তাদের দাবির বিষয়ে বলেন, “আমাদের দাবি ছিল, আমাদের ইনস্টিটিউটের শিক্ষকই পরিচালক হবেন। এটি স্বাভাবিক দাবি। আমরা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আসিনি। আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। আমাদের ইনস্টিটিউট নতুন, সেখানে অগ্রগতি দরকার। এ জন্য ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের উপযুক্ত মনে করছি। আমরা পড়াশোনা ঠিকমতো চালাতে চাই। আমাদের বিভাগ থেকেই অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।”
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়েছিল। সভা শেষে সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ভবন থেকে বের হতে গিয়ে ফটকে তালা দেখতে পান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং তালা ভেঙে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে বা প্রয়োজন হলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করবে, কথা বলবে। কিন্তু রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, যারা তালা দিয়েছে এবং এর পেছনে যেসব শিক্ষকের হাত আছে বা যারা ইন্ধন দিয়েছেন, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, তারা জানতে পেরেছেন যে গত রোববার সিএলসির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, “আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর, যারা সরাসরি শেখ হাসিনার শাসনামল দীর্ঘায়িত করার জন্য কাজ করেছে, তাদের কিছু অনুসারী প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কথা শুনে আমলে নিয়ে বিদায় করে। কিন্তু পরবর্তীতে হামীমের লোকজন ও তার অনুসারীরা এসে সিন্ডিকেট চলাকালীন সেখানে তালা দেয়। পরে বিষয়টি শুনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন এবং তালা ভেঙে উপাচার্যকে তার ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ করা হয়।
নতুন পরিচালক নিয়োগের পর ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এই নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তার দাবি ছিল, ইনস্টিটিউটের বিষয়সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।

















