গাইবান্ধার সাঘাটায় স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় যুবদলের হামলায় গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী মো. সালাউদ্দিন (২৭) মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনার ৪৮ দিন পর আজ শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিহত সালাউদ্দিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য মাওলানা শামসুল ইসলাম দুদুর ছোট ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন সাঘাটা উপজেলা যুবদলের হামলার শিকার হয়ে তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মরহুমের জানাজা আজ শনিবার বাদ মাগরিব সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমির মো. আব্দুল করিম এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ানেশ এমপি, অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু এমপি, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামানসহ জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও গাইবান্ধা পৌর মেয়র প্রার্থী মো. ফয়সাল কবির রানাসহ জেলা জামায়াতের অন্যান্য নেতারা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নেতারা তাদের বিবৃতিতে বলেন, আমরা আমাদের নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মীকে হারালাম। মহান আল্লাহ আমাদের ভাইয়ের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-পরিজনকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দিন, তার জীবনের নেক আমলগুলো কবুল করুন এবং গুনাহখাতা মাফ করে শহীদ হিসেবে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন ও চাপের মুখে কমিটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করতে গিয়ে গত ২১ জুন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ বারী (২৪) প্রাণ হারান। সেসময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. মোকলেছুর রহমান মুকুল, পলাশ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফের সরাসরি হামলায় সালাউদ্দিন আহত হয়েছিলেন।

















