নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতসহ যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দ্রুত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, সনদ স্বাক্ষরকারী অনেক রাজনৈতিক দলেরই বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। বৈঠকে দলগুলো তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে এবং যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি অংশ নেয়, একটি দল লিখিত বক্তব্য জমা দেয় এবং একটি দলের প্রতিনিধি অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। সব মিলিয়ে ১৭টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।
কমিটির কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি বৈঠক করার পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। সনদের বাইরে জাতীয় জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিপূরক প্রস্তাব এলে তাও বিবেচনা করা হবে, তবে নতুন করে পুরনো সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আসা হলে প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব থাকলে তা লিখিতভাবে কমিটির কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্য হয়েছে, সনদে তার প্রতিফলন রয়েছে। কিছু বিষয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এবং কিছু বিষয় আইন, বিধি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। এছাড়া কোনো দল যদি কোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে এবং পরবর্তীতে জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতির মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোও আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না—এমন প্রচারণাকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে আখ্যায়িত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল অংশ না নিলেও প্রক্রিয়াটি একপাক্ষিক নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, সনদে স্বাক্ষর করেনি এমন রাজনৈতিক দলগুলোও আলোচনায় অংশ নিতে চাইলে তাদের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত দলগুলোর কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাবও কমিটি বিবেচনা করবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উচ্চকক্ষ গঠনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাওয়া আসনের অনুপাতে, আবার কেউ মোট ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এসব বিষয়ও আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

















