সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামার করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন। আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে তিনি এই জামিননামা জমা দেন।
মামলার বিষয়ে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১০ আগস্ট গাজী নজরুল ইসলাম এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন লাভ করেছিলেন।
মামলার বাদী ওবায়দুর রহমান হলেন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মামা। গত ২১ জুলাই ওবায়দুর রহমান সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪) এবং তাঁর চার সহযোগীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অন্য চার আসামি হলেন আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ার’-এ তাঁর বোনের বাসায় থাকতেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে তিনি নজরুল ইসলামের বাসায় যাতায়াত করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ওবায়দুরের ভাগনির সঙ্গে নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর তাঁর পরিবারকে জানালে এবং নজরুল ইসলামকে এই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং ওবায়দুরকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীর কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। এতে নজরুল ইসলামের সন্দেহ হয় যে, ওবায়দুরই গোপনে ভিডিওগুলো ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে সরবরাহ করেছেন। এই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ১৪ জুলাই তিনি তাঁর নির্দেশে অন্য আসামিদের দিয়ে ওবায়দুরের ওপর হামলা চালান।
বাদী ওবায়দুর রহমানের ভাষ্যমতে, সেদিন বেলা ১১টার দিকে আমিনুর রহমান তাঁকে কৌশলে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমিনুর তাঁকে মেঝেতে ফেলে গলাচেপে হত্যার চেষ্টা করেন। এসময় ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পর জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগম। গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ঢাকায় মরিয়াম বেগমের বাবা মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই ঘটনার জেরে জামায়াতে ইসলামী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

















