কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে কটিয়াদী পৌর বিএনপির কার্যালয়ে ভুক্তভোগী নেতা নিজেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে টার্গেট করা হয়েছে এবং থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
শাহজাহান সিরাজী জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে তেলিচাড়া এলাকায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের বাড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একটি গোপন বৈঠক চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ভোগপাড়া এলাকার টিটু নামের এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর থেকেই উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদল এবং তার স্বজনরা তাকে সন্দেহ করে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে কটিয়াদী আসার পথে কাহেতেরটেকী এলাকায় পৌঁছালে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে তার ভাগিনা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এমদাদুল হক রাতুল, ভাতিজা ছাত্রলীগ নেতা মো. নাছিম, হাবিবুর রহমান সন্দেশ, আল আমিন ও শামীমসহ ১০-১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলকারীরা তাকে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী নেতার ভাষ্যমতে, ঘটনার পর তিনি শফিকুর রহমান বাদলের নাম উল্লেখ করে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা করতে যান, কিন্তু পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেনি। বাদলের নাম থাকায় পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এদিকে, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন ও সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল রহমান সজল এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান বাদলের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, মামলার বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি এসপি ও এমপি স্যার অবগত আছেন। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকেই জানতে পারেন অথবা আরও তথ্যের প্রয়োজনে থানায় এসে যোগাযোগ করতে পারেন।

















