ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের নাটকীয় সমাপ্তির পরও মাঠের উত্তেজনা যেন থামেনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই উত্তেজনার মুখে প্রতিপক্ষকে ধাক্কা দেওয়ার অপরাধে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ও লিওনেল মেসির সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ম্যাচ চলাকালীন একাধিকবার বিতর্কে জড়ানো পারেদেস শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষে বহিষ্কারের এই বিরল ঘটনার অংশ হয়ে যান।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে। কিছুটা দূরে থাকা পারেদেস দ্রুত সেখানে ছুটে এসে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় দুই দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস গাভির মুখেও আঘাত করছেন। এছাড়া থিয়াগো আলমাদাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডারকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় কয়েক মিটার দূরেই দানি ওলমো হাঁটু গেড়ে নিকো উইলিয়ামসকে আলিঙ্গন করে শিরোপা উদযাপন করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই হাতাহাতি শুরু হয়। ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় রেফারি পারেদেসকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কা জানিয়েছে, এই ঘটনার পর পারেদেস সবচেয়ে ঘৃণিত খেলোয়াড়দের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
মাঠে নামার পর থেকেই পারেদেস একাধিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বদলি হিসেবে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই দানি ওলমোকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে তিনি একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের শেষ দিকে পেনাল্টি এলাকার বাইরে আরেকটি ফাউল করলেও রেফারি তাকে দ্বিতীয় কার্ড দেননি। ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আবেগ নিয়ন্ত্রণের অভাব স্পষ্ট ছিল। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এনজো ফার্নান্দেজ প্রথমে একটি হলুদ কার্ড পান এবং পরে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে পাউ কুবারসিকে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। চোটের কারণেও আর্জেন্টিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; প্রথমার্ধের শেষদিকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং দ্বিতীয়ার্ধে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

















