আর্জেন্টাইন মহাতারকা ও বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি লিওনেল মেসির অর্জনের ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হতে যাচ্ছে। ফুটবল মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার’ প্রদান করা হচ্ছে। আগামীকাল ২৩ অক্টোবর স্পেনের ওভিয়েদোর তেয়াত্রো কাম্পোয়ামোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানী লেতিসিয়ার উপস্থিতিতে তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করবেন।
মেসির জন্য এই পুরস্কারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রথম একক ফুটবলার হিসেবে তিনি এই সম্মাননা পাচ্ছেন। তাছাড়া, এটি এমন এক শহরে আয়োজিত হচ্ছে যেখানে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেছেন। গত ৩ জুন ওভিয়েদোতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেসিকে ২০২৬ সালের ক্রীড়া বিভাগের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২৭ জন মনোনীত প্রার্থীর মধ্য থেকে জুরিরা তার দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ার, ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা সাফল্য, বিনয় এবং দাতব্য কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করে তাকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।
১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু হওয়া প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারটি বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা ও খেলাধুলাসহ আটটি ভিন্ন বিভাগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে মেসিকে স্প্যানিশ শিল্পী হুয়ান মিরোর নকশা করা একটি ভাস্কর্য, সনদ, ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য প্রদান করা হবে।
ফুটবল অঙ্গনের সঙ্গে এই পুরস্কারের ইতিহাস বেশ পুরনো। এর আগে ২০০২ সালে ব্রাজিল দল এবং ২০১০ সালে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল এই সম্মাননা পেয়েছিল। এছাড়া ২০১২ সালে ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ যৌথভাবে এই পুরস্কার জিতেছিলেন। টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদালের মতো কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদরা অতীতে এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন, তবে একক ফুটবলার হিসেবে মেসির এই অর্জন নতুন ইতিহাসের সূচনা করল।

















